mb

মৌলভীবাজার পশুর হাটে ক্রেতা-বেপারী সংকট

1,342

মৌলোভীবাজার২৪ ডেস্ক :: কোরবানীর ঈদের বাকি মাত্র এক দিন। অথচ মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় বড় এই উৎসবে অন্যান্য বারের মতো নেই কোন আমেজ। মহামারি করোনার কারণেই এমন করুণ অবস্থা হাটগুলোর। এতে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন খামারিরা। এছাড়া অন্যান্য বারের মতো হাটে খুব একটা দেখা মিলছে না বেপারীদেরও। গুটি কয়েক বেপারীরা হাটে পশু নিয়ে অপেক্ষায় থাকলেও পাচ্ছেন না ক্রেতার খোঁজ।

তেমনই এক বেপারী শিপন আহমদ দুইটি গরু নিয়ে এসেছেন মৌলভীবাজার জেলার  সবচেয়ে বড় কোরবানীর পশুর হাট স্টেডিয়াম মাঠে। বুক ভরা আশা নিয়ে সারা বছর যত্ন  করে লালনপালন করেছেন গরুগুলোকে। কিন্তু হাটে এসে বিক্রি করতে পারছেন না ক্রেতার অভাবে।

পাগুলিয়া এলাকা থেকে আসা শিপন  বলেন, ”হাটের অবস্থা বালা নায়। হাটো গরু নাই, মানুষও নাই। আমার ঘরো পালন করা গরুগুন বেচার লাগি এখন শেষ বাজারোর অপেক্ষাত আছি। বেছতে না পারলে গরু লইয়া বাড়িত যাইমুগি”।

new ads

শ্রীরাই নগর থেকে এসেছেন ৮টি গরু নিয়ে এসেছেন জয়নাল খান। তিনি বলেন, ”আশায় বসে আছি। লসের সম্ভাবনা বেশী। কম আর বেশি, বেচিয়া তো যাওয়া লাগবো। জান তো বাঁচানি লাগবো। খাইয়া-বাচিয়া কোন মনতে আরকি”।

নাজিরাবাদ এলাকা থেকে আসা সাদিক মিয়া ৫টা গরু নিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে লোকসান দিয়ে মাত্র একটি বিক্রি করতে পেরেছেন। কি কারণে তিনি লোকসানে বিক্রি করলেন জানতে চাইলে বলেন, ”করোনার কারণে মানুষ অভাবে আছে। সবেই কম-বেশী রুজি-রোজগার করতে পারের না। বাজারের অবস্থাও বালা নায়, সব গরু বেচতাম ফারমু করি মনে হয় না”।

সেই কিশোরগঞ্জ থেকে গরু নিয়ে এসেছেন বেপারী হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ”৫টা গরু নিয়ে এসেছিলাম। একটা বিক্রি করতে পেরেছি মাত্র। তাও আবার ৭ হাজার টাকা লসে বিক্রি করেছি। কারণ লসেই বিক্রি করতে হবে, গরুটা তো কিনে নিয়ে এসেছি। এটা নিয়ে তো আর ঘরে যাওয়া যাবে না”।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার স্টেডিয়াম পশুর হাটের পরিচালক জুয়েল আহমদ  জানান, হাটে এবার গরু কম। করোনার কারণে গরু বেশী উঠেনি আর দেশে বন্যা থাকায় পাইকাররা গরু নিয়ে আসতে পারেননি। ফলে আমরা লসে আছি। যে দুই দিন আছে যদি সম্ভব হয় তাহলে কিছু লাভ হয় কি না দেখা যাবে। তাছাড়া হাটে ক্রেতার সংখ্যাও এবার  কম।

এদিকে মৌলভীবাজারে ৭০ হাজার গবাদিপশু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন খামারি ও প্রান্তিক কৃষকেরা। তারা খোঁজ পাচ্ছেন না বেপারীদের। অন্যদিকে বেপারীরা পশু হাটে তুলে আশানুরুপ দামে বিক্রি করতে পারছেন না ।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৫০ হাজার ৯শত ৭২টি গরু-মহিষ ও ১৯ হাজার ৩শত ২৮টি ছাগল-ভেড়া কোরবানির জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। কিন্তু জেলায় মোট গবাদি পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ৯৫ হাজারেরও বেশী। এছাড়া ফেইসবুক পেইজের মাধ্যমে স্মার্ট হাট চালু করেছে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন।

10