mb

মৌলভীবাজারের কালিটি চা-বাগানের শ্রমিকদের ১৩ সপ্তাহের বকেয়া পরিশোধ : মজুরী পেয়ে শ্রমিকরা খুশি

263

স্টাফ রিপোর্টার॥ অবশেষে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার কালিটি চা-বাগান শ্রমিকের ১৩ সপ্তাহের বকেয়া মজুরী দেয়া হল। এর আগে বকেয়া মজুরীসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার দাবিতে বাগান শ্রমিকেরা কয়েক দফায় ভূখা বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম করে। পরে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমাধানে আসে।
বকেয়া মজুরী না পাওয়ায় অনাহারে-অর্ধাহারে থেকে একের পর এক আন্দোলন ও বিক্ষোভ করে আসছিলো বাগানে শ্রমিকরা। অবশেষে ১৩ সপ্তাহের বকেয়া মজুরী পেয়ে শ্রমিকরা অনেক খুশি হয়ে আবারও এক যোগে কাজে লেগেছেন। এই খুশিকে তারা তাদের আন্দোলনের বিজয় হিসেবে দেখছেন অনেকে। শ্রমিকরা মজুরীর টাকা হাতে পেয়ে আনন্দ-উল্লাস করতে দেখা গেছে।
উপজেলা প্রশাসন ও বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কালিটি বাগানের ইজারাদার প্রতিষ্ঠান সিলেটের ‘জোবেদা টি কোম্পানি’ ছিল। বেশ কিছু দিন থেকে বাগান পরিচালনায় অব্যবস্থাপনা শুরু হলে ৫৩৭ জন শ্রমিকের ১৩ সপ্তাহের মজুরী বন্ধ হয়ে যায়। মজুরির দাবিতে শ্রমিকরা থেমে থেমে বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন।
শ্রমিক আন্দোলন চলাকালে মেক্সন ব্রাদার্স বিডি লিমিটেড নতুন করে পরিচালনার দায়িত্ব নেয় কালিটি চা বাগানের। পরে ১০ মে রোববার বিকেল তিনটার দিকে বাগানের ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ের সামনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শ্রমিকদের দাঁড় করিয়ে মজুরী প্রদান করা হয় বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। ওইদিন মোট ১ কোটি ৭ লাখ টাকা মজুরী প্রদান করা হয়।
মজুরী প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী, কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদেক কাওছার দস্তগীর, কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইয়ারদৌস হাসান, সাবেক জোবেদা টি কোম্পানির চেয়ারম্যান আবদুল খালিক বর্তমান ও নতুনকরে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান যা হস্থান্তরের অনুমতি প্রক্রিয়াধিন মেক্সন ব্রাদার্স বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মালিক হুমায়ুন পরিচালক আজহারুজ্জামান সুহেল, বাগানের ব্যবস্থাপক প্রণব কান্তি দেব, স্থানীয় কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ রহমান আতিক, কালিটি বাগান শ্রমিক পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি শম্ভু দাস, সম্পাদক উত্তম কালোয়ার প্রমুখ।
কালিটি চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক উত্তম কালোয়ার জানান, ভূখা মিছিল ও কর্মবিরতি সহ আন্দোল করেছি। পরে মজুরী দেওয়া হয়েছে। সব দাবি বাস্তবায়নের সম্মতি পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, আমাদের ১৩ দফা দাবির ছয়টির বাস্তবায়ন হয়েছে। বাকি সাত দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করতে হবে।
চা-শ্রমিক নেতা বিশ্বজিত রবিদাশ বলেন, অনেক কষ্টে দিন কেটেছে। ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলন করেছি। আমাদের প্রাপ্য টাকা এতদিন আটকেছিল। অবশেষে সমাধান হওয়ায় মজুরী পেয়েছি।
মজুরী হাতে পেয়ে চা শ্রমিক অনিমা অলমিক জানান, নগদ মজুরীর টাকা পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। ছেলে-মেয়ে নিয়ে এতদিন কষ্টে ছিলেন। বচ্ছাদের লেখাপড়ার খরচসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে হিমশিম খেয়েছি।
চা শ্রমিক দয়াল অলমিক জানান, বকেয়া মজুরীসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত থাকায় আন্দোলন সংগ্রামের পাশাপাশি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনায় বারবার প্রশাসনের সঙ্গে বসেছি। অবশেষে বকেয়া মজুরীর সমস্যাটা সমাধান হলো। এতে আমি সহ সকল শ্রমিক আমরা খুশি।
কালিটি চা-বাগানের ব্যবস্থাপক প্রণব কান্তি দাশ জানান, শ্রমিকদের মজুরী দেওয়া শুরু হয়েছে। চা বাগানের ৫৩৭ চা-শ্রমিকের নগদ মজুরী ও বকেয়া বোনাস দেওয়া শুরু হয়েছে। তারা ১৩ সপ্তাহের বকেয়া মজুরি পাবেন।
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী জানান, সবার ঐকান্তিক চেষ্টায় বিশেষ করে জেলা প্রশাসকের বিশেষ সহযোগিতায় বেশ কয়েকবার সমঝোতা সভাকরে সমাধানের পথ খোঁজা হয়েছে। অবশেষে চা-বাগানের মজুরীর যে সমস্যা ছিল তা সমাধান করা হয়েছে। মালিক-শ্রমিক সহ সকলের সহযোগিতায় চা-শিল্প টিকিয়ে রাখতে হবে। তিনি আরও জানান, চা শ্রমিকদের মজুরীর নগদ প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বকেয়া ইতো মধ্যে তারা পরিশোধ করবেন। বাগানটি মালিকানা হস্থান্তরের আইনি বিষয় প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।
এবিষয়ে জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন জানান, শ্রমিকদের মজুরী আদায় করতে মালিক পক্ষের সাথে কয়েক দফা বৈঠক করি আমরা। সরেজমিন ঘটনাস্থলেও গিয়েছি একাধিক বার। এক প্রকার চাপ প্রয়োগ করে মজুরীর বিষয়টা সমাধান করা হয়েছে।
মেক্সন ব্রাদার্স বিডি লিমিটেডের পরিচালক আজহারুজ্জামান সুহেল জানান, শ্রমিকরা হচ্ছে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রান। তারা যদি মজুরীসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধে না পায়, তা হলে কাজে আগ্রহ থাকবেনা। আমরা নতুন করে দায়িত্ব নিয়ে ইতোমধ্যে শ্রমিকদের অধিকাংশ বকেয়া মজুরী পরিশোধ করেছি। শ্রমিক ও মালিকের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় আবাও বাগানটি ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি শ্রমিক, কর্মচারী ও স্থানীদের সহযোগীতা কামনা করেন।

 

10