দীর্ঘ ১৫ বছর জুড়ী উপজেলা আ’লীগের সম্মেলন ১২ অক্টোবর

153

বিশেষ প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা আ’লীগের আহবায়ক কমিটি গঠনের ১৫ বছর পর প্রথম কাউন্সিল ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে সর্বস্তরের নেতকর্মীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীরা নির্বাচিত হতে কাউন্সিলারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন।

জানা গেছে, কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন এমপি, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন কামরানসহ কেন্দ্রীয়, বিভাগীয় ও জেলা আ’লীগের নেতৃবৃন্দ।

উপজেলা আ’লীগের সভাপতি পদে দু’জন সিনিয়র নেতার নাম শুনা যাচ্ছে। এরা হলেন বর্তমান জুড়ী উপজেলা আ’লীগের আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা বদরুল হোসেন ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সহিদ চৌধুরী খুশি।

সাধারণ সম্পাদকের পদে ৬ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। এরা হলেন ফুলতলা ইউপির ৫ বারের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম আহবায়ক মাসুক আহমদ, সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুল ইসলাম কাজল, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল খালিক সোনা, উপজেলা আ’লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেক বাসষ্ট্যান্ড ম্যানেজার মাসুক আহমদ।

আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ২৪ অক্টোবর জুড়ীকে উপজেলা ঘোষনা করে তৎকালিন সরকার। ওই বছরই জায়ফরনগর ইউনয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল খালিক চৌধুরীকে আহবায়ক করে জুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তার মুত্যুতে যুগ্ম আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা আজির উদ্দিনকে আহবায়ক করা হয়। তিনিও মারা গেলে মুক্তিযোদ্ধা বদরুল হোসেন উপজেলা আ’লীগের আহবায়কের দায়িত্ব পান। প্রায় ৩ বছর থেকে অদ্যাবধি তিনি এ দায়িত্ব পালন করছেন।

আহবায়ক কমিটির ৭ বছর পর জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালিন সভাপতি জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এমপি ও সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ ২০১৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি নামে জুড়ী উপজেলা আ’লীগের একটি কমিটির অনুমোদন দেন।

এ কমিটি প্রকাশ পাওয়ার পরই তা প্রত্যাখ্যান করেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা এমএ মোমিত আসুক, মুক্তিযোদ্ধা আজির উদ্দিন, ইউপি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন লেমন, নাজমুল ইসলাম মাস্টার, ফৈয়াজ আলী, ইউপি চেয়ারম্যান মাসুক আহমদ, আব্দুন নুরসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ। ১০ অক্টোবর প্রকাশ্য সভায় তারা ৭ সদস্যের একটি উপ-কমিটি গঠন করেন। কিন্ত শেষ পর্যন্ত দলীয় কোন্দলের কারণে ওই সম্মেলন আর অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে হতাশ হয়ে পড়েন দলীয় নেতাকর্মীরা।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদপ্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সহিদ চৌধুরী খুশি জানান, ১৯৬৮ সালে তৎকালিন সরকার বিরোধী আন্দোলন করায় তাকে নানা হামলা-মামলার শিকার হতে হয়েছে। ‘৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করায় এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারেননি। পাক হানাদারের গুলিতে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। এরশাদ ও খালেদা জিয়া বিরোধী সকল আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন।

তিনি সভাপতি নির্বাচিত হলে জুড়ী আওয়ামী লীগকে একটি সুসংগঠিত অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবেন।

জুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদপ্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা বদরুল হোসেন জানান, উপজেলা গঠনের পর এই প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ নিয়ে নেতকর্মীরা বেশ উৎফুল্ল। সম্মেলন সফল করার জন্য সবধরণের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন। নেতাকর্মীরা চাচ্ছে বলেই তিনি সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন।