আপনার চিরনিদ্রা শান্তিময় হোক

141
আমরা, এই সাংবাদিকরা বারবার তাঁর ক্ষতি করার চেষ্টা করেছি।কিন্তু তিনি যা বলার সেটা আমাদের সামনে টাস টাস করে বলে ফেলেছেন।আড়ালে কোনো ক্ষতি করার চেষ্টা করেননি।আমরা মৌলভীবাজারের সাংবাদিকরাও তাঁকে চিনতাম বলে তাঁর সহজ সরল কর্মকাণ্ডগুলো আড়াল করে রাখার চেষ্টা করতাম।তাঁর দলের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন থাকায় সবসময় সবকিছু আড়াল করে রাখতে পারিনি।আমাদের কেউ একজন হয়ত কোনো পক্ষেরদ্বারা প্রভাবিত হয়ে কোনো এক অনলাইনে তাঁর কোনো কর্মকাণ্ডের (বক্তব্য) বিষয় প্রকাশ করে দিলে; পত্রিকা কতৃক্ষের নজরে সেটা এসে গেলে তাড়া আসতো ‘এ বিষয়ে বিস্তারিত নিউজ পাঠান।’ বাধ্য হয়ে আমাদেরও সেটা করতে হতো।আমি বলছি সদ্য প্রয়াত সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসীন আলীর কথা। সৈয়দ মহসীন আলী মানুষ হিসাবে অনন্য ছিলেন। তাঁর সাথে কারো তুলনা চলে না।মহসীন আলী কারো অনিষ্ট করেছেন; এমন কথা তাঁর কোনো শত্রুও বলতে পারবে না।তিনি মন্ত্রী হবার পরও মন্ত্রণালয়ে সময় না দিয়ে এলাকায়ই বেশি সময় কাটিয়েছেন।আমি তাঁর মুখোমুখি হয়ে বলেছিলাম; আপনি তো কেবল মৌলভীবাজারের মন্ত্রী নন, সারাদেশের মন্ত্রী। সারাদেশে আপনাকে কাজ করতে হবে।জবাবে তিনি বলেছিলেন; ‘মন্ত্রণালয়ের কাজে তো আমি কোনো ব্যাঘাত করছি না।আমি ঘুম থেকে উঠে আমার এলাকার মানুষগুলোকে না দেখলে স্বস্তি পাইনা।আমার এই মন্ত্রীত্ব থেকে আমার এলাকার মানুষগুলো অনেক প্রিয়।আমার মেয়েরা মন্ত্রণালয় ছেড়ে মৌলভীবাজারে ঘনঘন আসা নিয়ে তোমার মতোই ঘ্যানর ঘ্যানর করে। তারপরও আমি এভাবেই থাকবো, আমাকে কেউ বদলাতে পারবেনা।’ এলাকার মানুষ ছিলো তার আপনজন।এই মানুষগুলোকে ছেড়ে আজ তিনি চিরনিদ্রায়। আমার সাংবাদিকতার বয়স প্রায় তিনযুগ হলো।আমার এইদীর্ঘ সাংবাদিকতার সময়ে তিনি ১৮ বছর পৌর চেয়াম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন।আর এই ২০ মাসের কিছু বেশি সময় মন্ত্রীত্ব করলেন।আমি তাঁর কোনো দূর্নীতির খবর প্রচার করতে পারিনি।তিনি ব্যাংকে ঋণ খেলাপি হয়েছেন; এমন খবর কয়েকবার লিখেছি।গত বছর তাঁর মেঝমেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান করলেন মৌলভীবাজার ষ্ট্রেডিয়ামে। কয়েক হাজার মানুষ ওই বিয়েতে খেয়েছে।আমার আগ্রহ ছিলো এতো বড় বিয়ের অনুষ্ঠানের টাকাটা কোথা থেকে এসেছে; সেটা জানার।আমি তাঁকে সরাসরিই জিজ্ঞেস করেছিলাম।তিনি বললেন; শহরের কাজিরগাঁওয়ের আটশতক জমি বিক্রির টাকায় মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান করেছেন। মহসীন ভাই, সংকটে সমস্যায়, উৎসবে আনন্দে আপনার প্রিয় মানুষগুলো আপনাকে নিশ্চয় বারবার স্মরণ করবে।আপনার চিরনিদ্রা সুখময় শান্তিময় হোক।
(এই পোষ্টের ছবিটি মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের ২০১৫ সালের বনভোজনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পুরস্কার বিতরণের।এক সময়য়ের দ্যা টাইমস পত্রিকার মৌলভীবাজার প্রতিনিধি মৌলভীবাজারের সাংবাদিকদের আপনজন সৈয়দ মহসীন আলীও আমাদের সাথে ছিলেন)
(মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক আবদুল হামিদ মাহবুব ভাইর টাইম লাইন থেকে সংগ্রহ )