শনিবার সৈয়দ মহসিন আলীর  মৃত্যুবার্ষিকী

463

মো: মাহবুবুর রহমান রাহেল:  সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসিন আলীর ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর)।

জানা যায়, শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে  সৈয়দ শাহ মোস্তফা (র.) মাজার প্রাঙ্গণে সৈয়দ মহসিন আলীর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন পরিবারে সদস্য, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সকাল ১১ টায় আলোচনা সভা দুপুর ১ টা ৩৫ মিনিটের সময় তার নিজ বাসভবনে কুরআন তেলাওয়াত, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও শিরনি বিতরণের অয়োজন করা হয়েছে।

সৈয়দ মহসিন আলী ১৯৪৮ সালের ১২ ডিসেম্বর জন্ম নেন। ছাত্রলীগের একজন সদস্য হিসেবে মহসিন আলী ছাত্রজীবনেই আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭১-এর ২৩ বছর বয়সে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং ১৯৭৬-১৯৮৪ সাল পর্যন্ত মহকুমা জেলা রেডক্রিসেন্টের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবেও নিয়োজিত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি মৌলভীবাজার চেম্বারের সভাপতি এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন।

সৈয়দ মহসিন আলী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৮৪ সাল থেকে পরপর তিনবার মৌলভীবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালে স্থানীয় সরকারের আওতায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নেন। তিনি থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনে পরিবার পরিকল্পনা এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯২ সালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে শ্রেষ্ঠ পৌরসভা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯৮-২০০৫ পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানকে পরাজিত করে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর একই বছর ১২ জানুয়ারি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সমাজকল্যাণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান