দেবর-ভাবীর সমঝোতাজাপার চেয়ারম্যান কাদের, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন

121

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের আপাতত একটা সমাধান হয়েছে। দলের চেয়ারম্যান হিসেবে এইচ এম এরশাদের ভাই জি এম কাদের এবং সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে রওশন এরশাদ থাকবেন বলে সমঝোতা হয়েছে।

রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দল এখন ঐক্যবদ্ধ। কোথাও কোনো বিভক্তি নেই। এখন থেকে জাতীয় পার্টির আর বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না।

মসিউর রহমান যাকে ‘বড় ধরনের সমস্যা’ বললেন, আসলে এবার কোন্দল বেশ জটিলই ছিল। সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টিতে জি এম কাদের ও এরশাদপত্নী রওশনের নেতৃত্বে দুটি বলয় সব সময় সক্রিয়। মাঝে মধ্যে দুই উপদলের কোন্দল প্রকাশ্য হয়ে পড়ে। এরশাদ জীবিত থাকা অবস্থায়ই কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে একাধিকবার। গত ১৪ জুলাই মারা যান এরশাদ। তিনি প্রয়াত হওয়ার আগেই ছোট ভাই কাদেরকে দলের চেয়ারম্যান মনোনয়ন করেন। তখনই এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন রওশনপন্থীরা। এরশাদ মারা যাওয়ার পর সভাপতিমণ্ডলীর সভায় কাদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সর্বশেষ দ্বন্দ্বের শুরু গত সপ্তাহে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কাদের জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার জন্য স্পিকারকে চিঠি দেন। এতে ক্ষুব্ধ রওশনপন্থীরা বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন ডেকে এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তাঁদের কেউ কেউ বলেন, দলের সাংসদদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই কাদের এ চিঠি দিয়েছেন। এটা অবৈধ।

এরপর রওশন পাল্টা চিঠি দেন স্পিকারকে। ওই দিন রওশন এরশাদের গুলশানের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করেন জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি দলের চেয়ারম্যান হিসেবে রওশন এরশাদের নাম ঘোষণা করেন।

এই সংবাদ সম্মেলনের দুই ঘণ্টার মধ্যে জি এম কাদের আরেক সংবাদ সম্মেলন ডেকে চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করেন।

দলটির এই টানাপোড়েনের মধ্যে গতকালই রওশন সিদ্ধান্ত নেন, আজ জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতার কক্ষে দলীয় সাংসদদের নিয়ে সভা করবেন। এ খবর জানাজানি হওয়ার পর আজ দুপুর ১২টায় দলের বনানীর কার্যালয়ে সংসদীয় দলের পাল্টা সভা ডাকেন জি এম কাদের। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুই পক্ষে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে রওশন এরশাদের পক্ষ থেকে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে জি এম কাদেরের কাছে সমঝোতার প্রস্তাব পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়, রওশন এরশাদকে বিরোধীদলীয় নেতার পদে ছাড় দিলে জি এম কাদেরকে দলের চেয়ারম্যান মানতে রওশনের আপত্তি থাকবে না। প্রস্তাব পেয়ে জি এম কাদের তাঁর ঘনিষ্ঠ ও দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে পরামর্শ করেন।

দুই পক্ষের আটজন নেতা গুলশানের একটি হোটেলে বৈঠক করেন বলে জাতীয় পার্টির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সেখানেই রওশনের এই প্রস্তাব মেনে সমঝোতার সূত্র বের হয়। সপ্তাহখানেক ধরে চলা কোন্দলে কাদেরপন্থীরা দলের চেয়ারম্যান হিসেবে কাদেরকে এবং রওশনপন্থীরা রওশন এরশাদকে ঘোষণা দেন। তবে উভয় উপদলে মহাসচিব হিসেবে মসিউর রহমান রাঙ্গার নামই বহাল থাকে।

আজ সংবাদ সম্মেলনে গত রাতের বৈঠকের ‘সাফল্যের’ কথা তুলে রাঙ্গা বলেন, তিন দিন ধরে আমি বৈঠকের চেষ্টা করেছি। আমি মনে করি আমি সফল, আমি সফলতা অর্জন করেছি।

মসিউর বলেন, কাল যখন বৈঠকে মিলিত হলাম তখন শুরুতেই তাঁরা (কাদের ও রওশনপন্থীরা) সবাই সবার সঙ্গে বুক মিলিয়েছেন। তার আগে ওনারা বিভিন্ন পত্রিকায় বা টেলিভিশনে একে অন্যের সম্পর্কে বিভিন্ন কথা বলেছেন। আবার যখন কালকে বসেছি, সবাই গলা মিলিয়েই বসেছি।