মৌলভীবাজার শহীদ মিনারের জুতা নিয়ে স্কুলগামী তরুণ তরুণীরা আড্ডায় ব্যস্ত

577

স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের পূর্ব পাশে অবস্থিত শহীদ মিনারের বেদীতে জুতা নিয়ে এখন প্রতিদিন দেখা যায়, স্কুলগামী তরুণ তরুণীরা ঝুঁটির আড্ডা জমাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন,  এমনকি স্মৃতিসৌধের বেদীতে বসে গল্প আড্ডার ঝড় বসে। রিক্সা চালক থেকে শুরু করে, গরু রাখাল, গাড়ি চালক বখাটেদের আড্ডার মুল আখড়ায় যেন পরিণত হয়েছে শহিদ মিনারটি। প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুল ছাত্রী সেলফি তুলার সময় বলেছিলেন শহীদ বেদীতে জুতা পায়ে ওঠার প্রবণতায় পারিবারিক শিক্ষার অভাবকে দায়ী করছি। অথচ, সেই ছাত্রী নিজেই শহীদের রক্তে গড়া বেদী জুতা পায়ে মাড়িয়ে ছিলেন একটু আগেই। জানতে চাইলে বদলে গেল আগের উত্তর। এবার বিষয়টিকে তুচ্ছ বলে দাবী করে প্রতিবেদকের প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যায়।

এরকম নানা ঘটনায় প্রতিনিয়তই অপবিত্র হচ্ছে শহীদ বেদী। জুতো পায়ে চলে আড্ডা ও সেলফি তোলার মত ঘটনা। বীর শহীদদের স্মৃতি নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় বাঙ্গালি জাতিসত্ত্বার সবচেয়ে বড় আবেগের জায়গা এই শহীদ মিনার।

জুতা পায়ে শহীদ বেদীতে ওঠাকে চরম অসম্মানের আখ্যা দিয়ে মিনারের পবিত্রতা রক্ষার ওপর জোর দিলেন জেলার ভাষা সৈনিকরা এব্যাপারে সকলকে আরো সচেতন হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।২২ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন শহিদ মিনার প্রাঙ্গনে গিয়ে দেখা যায় যে, বেদীতে বসে জুতা নিয়ে ঝুঁটি বেঁধে আড্ডা ও হৈ হৈল¬ুড় করছে স্কুল ও কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা, গরু রাখাল ও গাড়ি চালকদের ও কমতি নেই এখানে।নিরিবিলি জায়গা থাকায় পবিত্র শহীদ মিনারের পিছন দিকে বসে স্কুল পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীরা ক্লাস টাইমে ইচ্ছেমত আড্ডা দিচ্ছে ও স্মার্ট ফোনে উচ্চস্বরে গান করছে এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

শহীদ মিনারের পাশে একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি বোর্ড টানানো আাছে, সেখানে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা রয়েছে শহীদ মিনারে কর্তৃপক্ষের  অনুমতি ব্যাতিত কোনো ধরনের অনুষ্ঠান কর্মসুচি পালন করা যাবে না। জুতা নিয়ে শহীদ মিনারের বেদীতে উঠা যাবে না।

স্থানীয়রা বলছেন, বিজ্ঞপ্তিটা শুধু লেখাই রয়ে গেলো যথাযথ কার্যকরি পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি কর্তৃপক্ষের কাউকে? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজ পড়ুয়া একজন ছাত্র প্রতিবেদককে বলেন, আমি প্রতিদিন কলেজে যাওয়ার সময় দেখি বোরকা পরা তরুনী ও স্কুল পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীরা পায়ে জুতা নিয়ে শহীদ মিনার বেদীতে আড্ডা দেয় গল্পগুজব করে এতে শহীদদের আত্মা কষ্ট পায় আমি সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করি যেন অচিরেই এব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পর্যায়ের এক নেতা বলেন, দীর্ঘদিন থেকে আমরা দেখে আসছি শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে গাড়ি পার্কিং করা হচ্ছে ও গাড়ি ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে যা সম্পুর্ণ অনৈতিক ও বিধি বহির্ভুত কেন যেন প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না তা আমার মাথায় আসে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সংসদ সদস্য  বলেন, শহীদ মিনারের স্মৃতিসৌধের উপরে বসা ও গল্পগুজব করা, শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে গবাদিপশু চরানো বখাটের আড্ডাখানা বিষয়টি দুঃখজনক এব্যাপারে সকল জনসাধারনকে সচেতন থাকার জন্য বলেছেন।

মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান বলেন, শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষা করা সকল সচেতন নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য ও দায়িত্ব। শহীদ মিনারের বেদীতে জুতা নিয়ে বসে ঝুঁটি বেঁধে আড্ডা দেওয়া আইন বহির্ভুত কাজ। আমি প্রশাসন ও পৌরসভার মেয়র মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং আইনশৃংঙ্খলা বাহীনির সার্বিক সহযোগিতা চাই।