মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আদিবাসী দিবসে ৮৭ সম্প্রদায়ের মিলন মেলা

150

২৫তম বিশ্ব আদিবাসী দিবসকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জড়ো হয়েছিলেন বিভাগের ৮৭ সম্প্রদায়ের সহ¯্রাধিক মানুষ। শ্রীমঙ্গল জেলাপরিষদ ডাকবাংলো প্রাঙ্গনে উপস্থিত হয়ে তারা বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে দিবসটি পালন করে। আর আলোচনা সভায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাবী তুলেন সমতলের আদীবাসী বা ক্ষ্রদ্র- নৃগোষ্ঠীর জন্য পৃথক মন্ত্রনালয় দেয়ার।
শুক্রবার দুপুর ১২টায় জেলা পরিষদ অডিটরিয়ান প্রাঙ্গনে ফিতা কেটে কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আদীবাসী ফোরামের প্রবীণ নেতা আনন্দ মোহন সিংহ। পরে বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের উদ্যোগে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম থেকে বের হয় এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় বসবাসরত খাসিয়া, মনিপুরী, গারো, সাওতাল, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আদিবাসীরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির পোষাক পড়ে অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি অডিটোরিয়াম থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার জেলাপরিষদ অডিটরিয়াম প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়।
পরে শ্রীমঙ্গল জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের কো চেয়ারপার্সন মুক্তিযোদ্ধা আনন্দ মোহন সিংহ এর সভাপতিত্বে আদিবাসীদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার ৩ আসনের সাংসদ ও মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নেছার আহমদ।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেব, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মনসুরুল হক কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ এর নারী ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম, আদিবাসী নেতা ফিলা পত্মী ও মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রাহক সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন বৃহত্তর আদিবাসী ফোরামের মহাসচিব ফিলা পতমী এবং শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন পরিমল সিং বারাইক।
পরে এ সকল ক্ষদ্র- নৃ গোষ্ঠীর বিভিন্ন আদীবাসী সম্প্রদায়ের পৃথক পৃথক পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ২৫তম দিবসে তাদের দাবী পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো সমতলের ৩২ লাখ ক্ষুদ্র- নৃগোষ্ঠী বা আদিবাসীদের জন্য আরেকটি মন্ত্রণালয় স্থাপন করা।
তারা বলেন, সরকার পরিবর্তন এর সাথে আদিবাসীদের নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে, এরশাদের আমলে নৃ-গোষ্ঠী, বিএনপির আমলে উপজাতি, আর বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগ নাম দিয়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। তবে তাদের দাবী আদিবাসী পরিচয় দেয়ার।
সরকার আমাদের আদিবাসীদের জন্য তাদের ভাষায় কয়েকটিবই বের করেছে, তবে আদিবাসী শিক্ষকের অভাবে বই গুলো পড়ানো হয় না।
বক্তারা বলেন, সারা বিশ্বে ৬৭০০ টি ভাষা আছে, এর মধ্যে ৫০০ ভাষা বিলুপ্তির পথে, বাংলাদেশ এর অনেক ভাষা আজ বিলুপ্তির পথে। দিন দিন ভাষা হারিয়ে যাচ্ছ। আমরা আধুনিকতার সাথে মিলে নিজেদের ভাষায় কথা বলি না, এটা ভাষা বিলুপ্তের প্রধান কারন।
একটি ভাষার ৫০ হাজারের কম মানুষ হলে তা বিপন্ন ভাষা ধরা হয়, আদিবাসীর ভাষা এভাবে অনাদরে যেন বিপন্ন না হয় সে জন্য আদিবাসীদের ভাষা সংরক্ষণে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।
এছাড়াও সমতলের আদিবাসীদের ভুমি, শিক্ষাসহ অনেক সমস্যা রয়েছে। আদিবাসীদের জন্য বাজেটে বরাদ্ধ বেশিরভাগ অর্থ পার্বত্য চট্রগ্রাম চলে যায়, সমতলের আদিবাসিরা সরকার থেকে তুলনামূলক কম সরকারি সহযোগিতা পান।