বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী আজ

69

আজ ৮ আগস্ট; স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী, মহীয়সী নারী, বাঙালির সব লড়াই-সংগ্রাম-আন্দোলনের নেপথ্যের প্রেরণাদায়ী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী।

১৯৩০ সালের এ দিনে তিনি গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা শেখ জহুরুল হক ও মা হোসনে আরা বেগম। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে বঙ্গবন্ধু এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ঘাতকের বুলেটে শহীদ হন তিনি।

শহীদ বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মাত্র ৩ বছর বয়সে পিতা ও ৫ বছর বয়সে মাতাকে হারান। তার ডাক নাম ছিল ‘রেণু’। পিতার নাম শেখ জহুরুল হক ও মাতার নাম হোসনে আরা বেগম। গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে তিনি প্রাথমিক লেখাপড়া করেন। অতঃপর সামাজিক রীতি-নীতির কারণে গ্রামে গৃহশিক্ষকের কাছে লেখাপড়া করেন।

১৯৬২ সালের সামরিক জান্তা আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরুর কিছু দিন পর বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তার হন। এরপর কারাগার থেকে বঙ্গমাতার মাধ্যমের বঙ্গবন্ধু আন্দোলনের দিকনির্দেশনা পৌঁছে দিতেন। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু যখন বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা ঘোষণা করেন তখন সেই ৬ দফার আলোকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ বাঙালি জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রেও বিশেষ ভূমিকা পালন করেন বেগম মুজিব।

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রাক্কালে সামরিক জান্তা একের পর এক হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে। জান্তার গুলিতে শহীদ হন আগরতলা মামলার আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হক। ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে আসে। শহীদ হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক শামসুজ্জোহা। আসাদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়। শহীদ হন নবকুমার ইন্সটিটিউটের দশম শ্রেণির ছাত্র মতিউর। ইতিহাসের এই পর্যায়ে বেগম মুজিব এক দৃঢ় ভূমিকা পালন করেন।

সামরিক জান্তা আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে গোলটেবিল আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেন। আওয়ামী লীগের অনেক প্রভাবশালী নেতা বঙ্গবন্ধু ভবন ৩২ নম্বরে বেগম মুজিবের কাছে ছুটে যান প্যারোলে মুক্তির প্রস্তাব মেনে নেয়ার জন্য। কিন্তু বেগম মুজিব এক অনমনীয় দৃঢ় মনোভাব প্রদর্শন করেন।

কারাগারে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করে তাকে প্যারোলে মুক্তি না নেয়ার অনুরোধ করেন। বঙ্গবন্ধু মুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। প্যারোলে মুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় পাকিস্তানি শাসকের সব পরিকল্পনা ভণ্ডুল হয়ে যায়। এভাবে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি ধাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।