বিয়ের পরও মিন্নি নিয়মিত নয়নের বাসায় যেত

341

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের আগের দিনও সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ডের বাসায় গিয়েছিলেন নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। এ কথা জানিয়েছেন রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ড মামলার প্রধান আসামি এবং পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত নয়ন বন্ডের মা শাহিদা বেগম।

তিনি বলেন, ‘রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ২৬ জুন (বুধবার)। এর আগের দিন মঙ্গলবারও মিন্নি আমাদের বাসায় এসে নয়নের সঙ্গে দেখা করে।

আমার ছেলে তো মারাই গেছে। এখন আমার তো আর মিথ্যে বলার কিছু নেই। মিন্নি মঙ্গলবারও যে আমাদের বাসায় গিয়েছিল, তা আমার প্রতিবেশীরাও দেখেছে।

নয়ন বন্ডের মা আরো বলেন, ‘শুধু হত্যাকাণ্ডের আগের দিন মঙ্গলবারই নয়; বিয়ের পরও মিন্নি নিয়মিত বাসায় আসতো। নয়নের সঙ্গে দেখা করতো। রিফাত মোটরসাইকেলে মিন্নিকে কলেজে নামিয়ে দিয়ে চলে যেত। এরপর মিন্নি আমাদের বাসায় চলে আসতো। আবার কলেজের ক্লাস শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে সে বাসা থেকে বের হয়ে কলেজে যেত।’

রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিন্নি জড়িত দাবি করে নয়নের মা শাহিদা বেগম বলেন, ‘রিফাতের সঙ্গে মিন্নির বিয়ের খবর পাওয়ার পর আমি আমার ছেলেকে যোগাযোগ না রাখতে অনেক নিষেধ করেছি। কিন্তু আমার ছেলে নয়ন কখনো আমার কথা শুনতো না। ওর মনে যা চাইতো ও তা-ই করতো। নয়ন যদি আমার কথা শুনতো তাহলে এমন ঘটনা ঘটতো না।’

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ওই দিনই রিফাতকে হত্যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়ে যায়।

নিহত রিফাত শরীফের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবণগোলা গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ। মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন রিফাত।