সুনামগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭

147

সুনামগঞ্জ-দিরাই সড়কের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার গণিগঞ্জ এলাকায় বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে ৭ লেগুনা যাত্রী নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও ৭ জন।

রোববার (২ জুন) ভোর ৬টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের দুর্বাকান্দা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে আফজাল হোসেন (১৬), একই গ্রামের ফয়জুল মিয়ার ছেলে মিলন (১৫), ইস্তফা মিয়ার ছেলে সাগর মিয়া (১৬), একই উপজেলার গাগলী গ্রামের আলী আকবরের ছেলে লেগুনা চালক মো. নোমান (২২), শাল্লা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের মনীন্দ্র কুমার দাসের ছেলে রিমেশ চন্দ্র দাস (২২), দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের সেচনি গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে ফজলুল করিম (৩০) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কুটি গ্রামের নারায়ন চন্দ্র সাহার ছেলে শিপন কুমার সাহা (৩৩)।

গুরুতর আহতরা হলেন- দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দুর্বাকান্দা-ঠাকুর-ভোগ গ্রামের ফজল মিয়ার ছেলে রেজাউল করিম (১৬), শাল্লা উপজেলার কাশিপুর গ্রামের রাধাকৃষ্ণ দাসের ছেলে শংকর দাস (২১), তার ন্ত্রী তারামণি দাস (১৮), দিরাই উপজেলার মকসদুপুর গ্রামের মহরম আলীর ছেলে আবুল কাশেম (২৪), একই উপজেলার ভাটিপাড়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে রাজু মিয়া (২০), রাজানগর ইউনিয়নের গচিয়া গ্রামের ইমান আলীর ছেলে কাজল মিয়া (৩০)।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় নিহতদের লাশ উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, লিমন পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা-মেট্রো-ব-১৫-০৮০১) ঢাকা থেকে দিরাইয়ে যাত্রী নামিয়ে সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে আসছিল। বাসটি দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার গণিগঞ্জ এলাকায় পৌঁছলে দিরাই-মদনপুর পয়েন্ট থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী লেগুনা (সিলেট-ছ-২৫৯১) এর সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনাটি সড়কের দুপাশে ছিটকে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে ৬ লেগুনা যাত্রীর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন আরো ৮ যাত্রী।

পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এসে লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ লাশের পরিচয় সনাক্ত করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী গণিগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ও কৃষক তাজির উদ্দিন বলেন, ‘এই দুর্ঘটনার জন্য লিমন পরিবহনের বাসের চালকই দায়ী। কারণ বাসের চালক খুব বেপরোয়া গতিতে বাসটি চালাচ্ছিল। আমাদের ধারনা সারারাত বাস চালানোর কারণে এই চালক ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল। কারণ লিমন বাসের চালক কিছু সময় আগে দিরাইয়ে যাত্রী নিয়ে গিয়েছিল। যাত্রী নামিয়ে বাস চালকের বিশ্রাম বা ঘুমানোর কথা ছিল। কিন্তু এই চালক যাত্রী নামিয়ে না ঘুমিয়ে আবারো বাসটি নিয়ে দ্রুত গতিতে সুনামগঞ্জ যাচ্ছিল।’

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬ জনের লাশ সদর হাসপাতালে আনা হয়েছিল। আহত ৮ জনকে সদর হাসপাতালে এসেছিলেন। এদের ৫ জনকে গুরুতর অবস্থায় সিলেট পাঠানো হয়েছিল, একজন রাস্তায় মারা গেছেন।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ওসি হারুনুর রশিদ চৌধুরী জানান, বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে লেগুনার ৫ জন যাত্রী ও লেগুনাচালক ঘটনাস্থলে মারা গেছেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত আরো একজন মারা গেছেন। লেগুনার ৭ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।