কুলাউড়ার নওমুসলিম পরিবারের ঠিকানা পরিত্যক্ত রেলওয়ে কোয়ার্টার

404

হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী সেই পরিবারের ঠিকানা এখন মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ভাটেরা স্টেশনের পরিত্যক্ত রেলওয়ে কোয়ার্টার। সেখানেই পরিবারসহ বসবাস করছেন তারা।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর নিজ গ্রাম কৃষ্ণপুর ছেড়ে দেন ওই নওমুসলিম পরিবার। ধর্ম ত্যাগ করায় মাঝে মাঝে হিন্দুপাড়া প্রতিবেশি কেউ কেউ হাসাহাসি, কেউ কেউ গালাগালি করেন। কিন্তু মুসলমানদের আন্তরিকতায় নিরাপদে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পালন করছেন। মঙ্গলবার থেকে তারা রোজাও রাখবেন।

সোমবার সরেজমিনে উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে গেলে স্থানীয় লোকজন জানান, ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর কৃষ্ণপুর গ্রাম ছেড়ে দিয়ে আশ্রয় নেন ভাটেরা স্টেশনের পরিত্যক্ত রেলওয়ে কোয়ার্টারে। পরিত্যক্ত এসব কোয়ার্টার বসবাসের উপযোগী না হলেও মাথা গোজার বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় কষ্ট করেই এখানে বসবাস করছেন তারা।

বার্ধক্য আর নানা রোগে আক্রান্ত নওমুসলিম ইব্রাহিম জানান, সবার আন্তরিক সহযোগিতায় আল্লাহর রহমতে নিরাপদে এবং ভালোই আছেন। রেলওয়ে কোয়ার্টারে বসবাসে একটু কষ্ট হলেও যতক্ষণ বিকল্প ব্যবস্থা না হচ্ছে ততক্ষণ এখানেই থাকতে হবে।

ভাটেরা স্টেশন জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. হোসাইন আহমদ জানান, নওমুসলিম ইব্রাহিম ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর থেকে মসজিদে জামায়াতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের চেষ্টা করেন। রোগ শোক ও বয়সের কারণে অনেক সময় ফজরের নামাজ মিস করেন। তবে একজন ভালো মানুষ হিসেবেই তিনি তার সব কাজকর্ম পরিচালিত করছেন।

কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা নিতাই দাস গত ২৪ মার্চ স্বপরিবারে ধর্মান্তরিত হন। হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর নিতাই দাসের নাম পরিবর্তন করে ইব্রাহিম, স্ত্রীর নাম রহিমা বেগম, ছেলের নাম ইসমাইল আলী এবং মেয়ের নাম কুলসুমা বেগম ও ফাতেমা বেগম রাখা হয়।

ভাটেরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম জানান, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার আগ্রহ প্রকাশের পর থেকে তিনি তাদেরকে সহযোগিতা করে আসছেন। তাছাড়া দেশ বিদেশ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে তাদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। এলাকার মানুষ তাদের নিরাপদ বসবাসের ব্যাপারে সচেতন। সবার সহযোগিতামূলক মনোভাব রয়েছে।