ঠেকানো যাচ্ছে না অনুপ্রবেশ, ছাত্রদল কর্মী থেকে হয়ে গেলেন ছাত্রলীগ সভাপতি!

457

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। খোদ ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সক্রিয় কর্মী হওয়ার পরও ছাত্রলীগের একটি ইউনিটের সভাপতির পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। গত ২ এপ্রিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্দান ইউনিভার্সিটির ছাত্রলীগ শাখার সভাপতি হিসাবে মনোনীত হয়েছেন আনিসুল ইসলাম সোহেল।

তার বিরুদ্ধে গত কয়েক বছর ধরে ছাত্রদল এবং শুরুতে ছাত্র শিবির করার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে যথেষ্ট প্রমাণাদিও ভোরের পাতার কাছে এসেছে। সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ হোসেন পারভেজ এবং সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হাকিম সম্রাট স্বাক্ষরিত অনুমোদিত এ কমিটিতে নর্দান ইউনিভার্সিটির সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মহিদুল ইসলাম অদি। যদিও তার বিরুদ্ধে ছাত্রদল বা শিবির করার মতো গুরুতর কোনো অভিযোগ নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের নতুন সভাপতি আনিসুল ইসলাম সোহেলের বাড়ি কক্সবাজারে। পারিবারিকভাবেই তারা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতারও অভিযোগ রয়েছে সোহেলের বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত যথেষ্ট প্রমাণাদি ভোরের পাতার কাছে এসেছে। এছাড়া সক্রিয় ছাত্রদল ও শিবিরকর্মী থেকে শুরু করে কোটা সংস্কার আন্দোলনে গুজব ছড়িয়ে ধরিয়ে দেয়ার তালিকায় আসা রূপন্তী দীপা মল্লিকার সাথেও সোহেলের ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ হাতে এসেছে।

নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের একটি অংশ আনিসুল ইসলাম সোহেলের মতো একজন বিতর্কিতকে কিভাবে ছাত্রলীগের সভাপতি বানিয়েছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিবির ও ছাত্রদলের ছেলেরাই ছাত্রলীগের পদ বাগিয়ে নিচ্ছে, যা অত্যন্ত লজ্জার এবং দুঃখের। যারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদর্শের রাজনীতি করে তারা কোনো পদ পায় না। কিন্তু বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির খুব ঘনিষ্ঠ হওয়ার পরও তাকে কিভাবে ছাত্রলীগের সভাপতির পদে আনা হলো তা কেন্দ্রীয় কমিটিকে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও দাবি জানিয়েছে ছাত্রলীগের একটি অংশ।

এ বিষয়ে সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হাকিম সম্রাট বলেন, আমরা আমাদের ইউনিট থেকে সোহেলের পরিবার এবং তার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিয়েছি। কিন্তু এমন কিছু পাইনি। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে অবহিত করেই কমিটি করা হয়েছে। তবে সোহেলের বিরুদ্ধে প্রমাণ দিতে পারলে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।