মৌলভীবাজারে ৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলায় অব্যাহতি পেলেন সাংবাদিক আজাদ ও প্রবাসী মনি

499

সংবাদদাতাঃ মৌলভীবাজার চৌমুহনাস্থ ইউনাইটেড কমপ্যাথ ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের দায়ের করা ৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলায় অব্যাহতি পেলেন সাংবাদিক আজাদুর রহমান আজাদ ও বৃটেন প্রবাসী মনি বেগম। মামলার বিবরনে জানা যায় মৌলভীবাজার শহরের কাশিনাথ সড়কস্থ কয়ছর মঞ্জিলে বসবাসরত শিক্ষিকা রুজি বেগমের বৃটেন প্রবাসী বোন মনি বেগম ২০০৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী ডাঃ অলক রঞ্জন দাশের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে ইউনাইটেড কমপ্যাথে ডায়েবেটিস পরীক্ষা করান। রিপোর্ট আসে ২০৫ এমজি। ডাক্তার অলক রঞ্জন রিপোর্ট দেখে রোগীর ডায়াবেটিস সনাক্ত করে তাকে ঢাকা ডায়াবেটিস হাসপাতালে রেফার করেন। রোগী সেখানে না গিয়ে ১৯/০২/০৮ ইং মৌলভীবাজার পালস ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে আবার পরীক্ষা করান। রিপোর্ট আসে ১৫৫ এমজি। দুটি রিপোর্টে তফাৎ হওয়ায় রোগীনীর সন্দেহ হলে তিনি ইউনাইটেড কমপ্যাথে গিয়ে রিপোর্টের কথা জানান। ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ রোগীনীকে পরের দিন এসে তাদের প্রতিষ্ঠানে আরেকটি পরীক্ষা করার অনুরোধ করেন। ঐ দিন পরীক্ষার রিপোর্ট আসে ২৪৫ এমজি। অর্থাৎ প্রথম দিন থেকে ৪০ এমজি বেশি। তখন ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ বলে আমাদের প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টই সঠিক। তিনি হাল ছাড়লেন না। ছুটে গেলেন সিলেট পপুলার মেডিকেল সেন্টারে। সেখানে পরীক্ষা করানোর পর রিপোর্ট আসে ৭.৬ এমজি। এরপর রোগীনী মৌলভীবাজার ডায়েবেটিস সেন্টারে পরীক্ষা করান সেখানেও রিপোর্ট আসে ৭.৬ এমজি। অবশেষে রোগীনী মনি বেগম বুঝতে পারেন তিনি একজন সুস্থ মানুষ। তাকে ভুল পরীক্ষা করে ডায়েবেটিস রোগীতে রুপান্তরিত করা হয়েছে। তাই তিনি মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন বরাবরে ১৩/০৪/০৮ ইং একটি লিখিত অভিযোগ করেন। মনি বেগম অভিযোগ পত্রের অনুলিপি মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাব ও জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের কাছেও পাঠান। এরপর বিষয়টি দৈনিক সংগ্রাম ও শ্রীমঙ্গল পরিক্রমা সহ অন্যান্য পত্রিকার ছাপা হয় ২০০৮ সালের এপ্রিল মাসে। এতে ক্ষুদ্ব হয়ে ইউনাইটেড কমপ্যাথ কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যবসায়ীক সুনামের ক্ষতিপূরণ বাবদ ২ কোটি টাকা এবং চিকিৎসক ও টেকশিয়ানের যোগ্যতা সম্পর্কে কটাক্ষ করে সংবাদ ছাপা হওয়ায় পেশাগত ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩ কোটি টাকা মোট ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার দাবী নিয়ে ২০০৮ সালের মে মাসে মৌলভীবাজার যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে মামলা দায়ের করেন মামলা নং ০২/২০০৮ইং। মামলার আসামী করা হয় বৃটেন প্রবাসী মনি বেগম ও দৈনিক সংগ্রামের জেলা সংবাদদাতা আজাদুর রহমান আজাদ। দীর্ঘ ১০ বছর ৪ মাস মামলার বিভিন্ন পর্যায়ে শুনানি চলে। অবশেষে ৫ কোটি টাকা দাবীর এ মামলার রায় প্রদান করেন মৌলভীবাজারের প্রথম যুগ্ম জেলা জজ মোঃ সিরাজউদ্দিন ইকবাল। রায়ে অব্যাহতি দেয়া হয় দৈনিক সংগ্রামের মৌলভীবাজার জেলা সংবাদদাতা আজাদুর রহমান আজাদ ও বৃটেন প্রবাসী মনি বেগমকে ।
মামলার আদেশে আদালত বলেন, যেহেতু ইউনাইটেড কমপ্যাথ একটি আনরেজিষ্টার্ড পার্টনারসিপ ফার্ম। অতএব আনরেজিষ্টার্ড ফার্ম হিসেবে এবং মামলা দায়েরকারীর নাম অংশীদার হিসেবে ফার্মের রেজিষ্টারে না থাকলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ৩য় পক্ষের বিরুদ্ধে কোন মামলা দায়ের করা যাবে না ১৯৩২ সালের ৬৯ (২) এর ধারার বিধান অনুযায়ী।
এবং দৈনিক সংগ্রামে যে রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে তা পর্যালোচনায় দেখা যায় রিপোর্টে বাদি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে যে তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে তা ১ নং বিবাদী মনি বেগমের সিভিল সার্জনের কাছে দেয়া অভিযোগের বরাতে প্রকাশিত হয়েছে। ইহা সংবাদদাতার নিজস্ব কোন বক্তব্য নয় অভিযোগের বক্তব্য।
অতএব সরকারী কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিলকৃত অভিযোগের তথ্যাবলী উল্লেখ পূর্বক সংবাদ প্রেরনের কারণে ইউনাইটেড কমপ্যাথের সুনাম ক্ষুন্ন হওয়ার কারণ গ্রহন যোগ্য নয়।
এছাড়া পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রিপোর্টার পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সমানভাবে দায়ী থাকেন। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে সংক্ষুব্দ হয়ে কেউ মামলা দায়ের করলে সংশ্লিষ্ট রিপোর্টার সম্পাদক ও প্রকাশককে মামলায় পক্ষ করতে হয় কিন্তু এই মামলায় বাদী শুধুমাত্র সংবাদদাতাকে পক্ষভোক্ত করেছেন। প্রয়োজনীয় পক্ষকে বিবাদী শ্রেণীভুক্ত না করায় এ মামলা পক্ষ দোষে দুষ্ট।
এছাড়া আদালত তার রায়ে আরও বলেন সিভিল সার্জন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সরকারী কর্মকর্তা। কোন নাগরিক স্বাস্থ্য সেবা সংক্রান্ত অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে সিভিল সার্জনের কাছে অভিযোগ করতে পারেন এবং তিনি তদন্ত সাপেক্ষে যথাযত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।
সিভিল সার্জনের কাছে অভিযোগ কোন বেআইনী বিষয় নয় তার কাছে অভিযোগ করাই যথোপযুক্ত এবং তিনি অভিযোগ গ্রহনের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ। সুতরাং সরকারী উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট ১ নং বিবাদী মনি বেগম অভিযোগ দাখিলের মাধ্যমে বাদী প্রতিষ্ঠান এবং তার অংশীদার ও কর্মরত ব্যক্তিবর্গের মানসম্মান ও সুনামহানীর কোন কারণ থাকতে পারে না।

বাদী পক্ষের আইনজীবি ছিলেন এড. রমাকান্ত দাস গুপ্ত এবং বিবাদী পক্ষে ছিলেন এড. কিশোরী পদ দেব।