সাতদিনের মধ্যে ছাত্রলীগের কমিটি করার নির্দেশ

507

প্রায় ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পূণাঙ্গ কমিটির গঠন ব্যর্থ হওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে আগামী সাতদিনের মধ্যে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পূণাঙ্গ কমিটি গঠন ও প্রকাশ করার নিদের্শ দিয়েছেন। এছাড়া সরকার ও দলের মধ্যে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর বার্তা দিয়েছেন তিনি। গত সোমবার রাতে গণভবনে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সাথে এক বৈঠকে এ নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী এবং দলের সুনাম ক্ষুণ্নকারীরা কোনোভাবেই পার পাবে না। অপকর্মে জড়িত নেতা-কর্মীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। । শুধু তাই নয়, দলটির ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সামপ্রতিক কর্মকা্ল এবং বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলটির সভানেত্রী ওই বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের বলেন, হয় ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙ্গে দাও, নইলে আগামী সাতদিনের মধ্যে পূণাঙ্গ করে দাও। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন এবং আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাছিম।আ.লীগ সূত্রে, আগামী অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত হতে পারে ক্ষমতাসীন আ.লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন। ওই সম্মেলনকে সামনে রেখে দলের শীর্ষ পদে থাকতে ইতোমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে শীর্ষ নেতারা। বিশেষ করে আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি সুস্থ হয়ে রাজনীতিতে ফেরা অনেকটাই অনিশ্চিত। তাই দলটির এ শীর্ষ পদে আসতে কাজ করছে কেন্দ্রীয় নেতারা। যা নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের মাঝেকোন্দল বিরাজ করছে। শুধু তাই নয়, গত ১০ মার্চ থেকে শুরু হয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন এবার অনুষ্ঠিত হয় পাঁচটি ধাপে। এর মধ্যে চতুর্থ ধাপের ভোটগ্রহণ শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে বিএনপিসহ বেশকিছু রাজনৈতিক দল না থাকায় নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতি নমনীয় ভাব দেখায় আ.লীগ। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে পক্ষপাতিত্ব না করার নির্দেশ দেন আ.লীগ সভানেত্রী। অথচ প্রকাশ্যে নৌকার বিরোধিতা করেন মন্ত্রী, এমপি ও কেন্দ্রীয় আ.লীগের নেতাকর্মীরা। যা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি হয়। দলের অভ্যন্তরে এসব কোন্দল দেখতে চান না সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই তিনি দলের সিনিয়র নেতাদের এ নির্দেশনা প্রদান করেন।সূত্রে জানা যায়, টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। এই সুযোগে দলের ভিতরে অনেক সুবিধাবাজ ও ভিন্নপন্থি নেতা স্বার্থ হাসিলের জন্য আ.লীগের বর্তমান নেতার হাত ধরে দলে অনুপ্রবেশ করেছে। ওইসব নেতা আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরে কোন্দলের পাশাপাশি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। একইভাবে বিগত সময়ে যেভাবে তারা ষড়যন্ত্র করেছেন। তবে এসব বিষয় থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। এদিকে চৈত্রসংক্রান্তি ও পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উদ্যোগে ও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহযোগিতায় দুদিনব্যাপী মল চত্বরে লোকসংগীত উৎসব ও কনসার্টের আয়োজন করা হয়। গত শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে উৎসবস্থলে ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এরপর ছাত্রলীগের দুপক্ষ প্রকাশ্যে কোন্দল শুরু করেন। ছাত্রলীগের সামপ্রতিক কর্মকা্ল এবং ওইসব নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংগঠন ও সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের নির্দেশও দেন তিনি। এছাড়া ছাত্রলীগের সামপ্রতিক কর্মকা্লের পাশাপাশি দীর্ঘ ১ বছরেও কমিটি করতে না পারায় ছাত্রলীগের বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে সভানেত্রী বর্তমান কমিটি ভেঙে দেয়ার বিষয়ে বৈঠকে নেতাদের সাথে আলোচনা করেন। উপস্থিত নেতাকর্মীদের তিনি বলেন, সবাই মিলে আগামী সাতদিনের মধ্যে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে দাও, নইলে বর্তমান কমিটি ভেঙে দাও। শুধু তাই নয়, বর্তমান কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশ প্রদান করে তিনি বলেন, গত কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনের সঙ্গে আলোচনা করার নির্দেশ প্রদান করেন। আলোচনার মাধ্যমে ক্লিন ইমেজধারী ছাত্রনেতাদের সমন্বয়ে কমিটি করার নির্দেশ প্রদান করেন শেখ হাসিনা।আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক আমার সংবাদকে বলেন, দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ও সুনাম ক্ষুণ্নকারীরা কোনোভাবেই পার পাবে না। এ বিষয়ে দলীয় সভানেত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই লক্ষে আমরা সকল কার্যক্রম শুরু করেছি। ছাত্রলীগের কমিটি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নেত্রী বলেছেন আগামী সাতদিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে। আশা করি এই সাতদিনের আগেই ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়ে যাবে। উল্লেখ, গত বছরের ১১-১২ মে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয় ছাত্রলীগের ২৯তম কেন্দ্রীয় সম্মেলন। সে সময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করার কথা থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভিন্ন ইস্যুর কারণে প্রায় আড়াই মাস পর (৩১ জুলাই) রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। সে সময় নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণার পাশাপাশি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার তাগিদ দেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী। এর পর দীর্ঘ ৯ মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। তবে এ কমিটির আগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাইফুর রহমান সোহাগকে সভাপতি ও এসএম জাকির হোসাইনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ওই কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নাম ঘোষণা হওয়ার সাত মাস পর পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রকাশ করেন। সে সময় পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝেও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। তবে সব সমালোচনা কাটিয়ে কমিটি প্রকাশ করেন এই দুই নেতা।