জামানত হারালেন যেসব আলোচিত ও হেভিওয়েট প্রার্থী

173

একাদশ জাতীয় নির্বাচন ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। তবে সে নির্বাচনে আলোচিত ও হেভিওয়েট প্রার্থীদের অনেকেই জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী একজন প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের অষ্টমাংস না পেলে তার দেয়া জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। সে তালিকায় জায়গা হয়েছে অনেক হেভিওয়েট ও আলোচিত প্রার্থীদেরও। এদের মধ্যে রয়েছেন কুড়িগ্রাম-৪ আসন (রৌমারী, রাজীবপুর ও চিলমারী উপজেলা) গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। তিনি তার আসনের তিন উপজেলায় মোট ২ হাজার ৭৭৫ ভোট পেয়েছেন, যা ওই আসনে কাস্টিং ভোটের এক অষ্টমাংশের কম। যার ফলে এ নির্বাচনে জামানত হারাচ্ছেন ইমরান এইচ সরকার। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম-৪ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৮৯ হাজার ১২০ জন। মোট ১৩০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ আসনে মোট বৈধ ভোট সংখ্যা ২ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৯। এ আসনে জামানত ফেরতের জন্য অন্তত ২৯ হাজার ৫০০ ভোট পাওয়া প্রয়োজন। কুড়িগ্রাম-৪ আসনের মোট বৈধ ভোটের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এ আসনে মোটরগাড়ি প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেয়া ডা. ইমরান এইচ সরকার ও লাঙ্গল প্রতীকে অংশ নেওয়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী মেজর (অব.) আশরাফ উদ দৌলা তাজসহ (মোট প্রাপ্ত ভোট ৩৩৩) মোট ১৪ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। এ আসনে মোট ১৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন। এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো.জাকির হোসেন ১ লাখ ৬২ হাজার ৬৩৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজিজুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৯৬০ ভোট। জামানত হারালেন কনকচাঁপা। এবারের নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর-আংশিক সদর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে লড়েছিলেন কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। কিন্তু মাত্র ১ হাজার ১১৮ ভোট পেয়ে তিনি জামানত হারিয়েছেন। ভোট গণনা শেষে রাত ১০টার দিকে এ ফলাফল ঘোষণা করেন কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহিদুল হক সিদ্দীক। তিনি বলেন, এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম নৌকা প্রতীকে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৪২৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। যদিও বিভিন্ন অভিযোগ এনে গত রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভোট বর্জন করেন কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। অন্যদিকে বরিশালের ২১টি আসনের ২০টিতেই জামানত হারিয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা। জামানত হারানো প্রার্থীদের তালিকায় বিএনপির বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন। তারা প্রাপ্ত (কাস্ট) ভোটের আট ভাগের এক ভাগও পাননি। জামানত হারানো হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আরেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দীন আহমেদ, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার, সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান ওমর, সাবেক ছাত্রদল নেতা নাজিম উদ্দীন আলম আছেন। তবে ফল ঘোষণার আগেই ধানের শীষ প্রতীকের এই প্রার্থীরা নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ আনেন। এসব অভিযোগে তারা আগেই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, বরিশাল জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা জামানত হারাচ্ছেন। বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ২ লাখ ৫ হাজার ৫০২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির সাবেক সাংসদ জহির উদ্দিন স্বপন পেয়েছেন ১ হাজার ৩০৫ ভোট। এ কারণে তিনি জামানত হারাচ্ছেন। বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. শাহে আলম ২ লাখ ১২ হাজার ৩৪৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু পেয়েছেন ১১ হাজার ১৩৭ ভোট। তিনিও জামানত হারাচ্ছেন। বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদি) আসনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপু ৫৪ হাজার ৭৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির জয়নুল আবেদীন ৪৭ হাজার ২৮৭ ভোট পেয়েছেন। এই আসন জয়নুল জামানত হারাচ্ছেন না। বরিশাল-৪ (মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা) আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের পঙ্কজ দেবনাথ পেয়েছেন ২ লাখ ৪১ হাজার ৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে নুরুর রহমান পেয়েছেন ৯ হাজার ২৮২ ভোট। এ কারণে এই আসনেও বিএনপির প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন। বরিশাল-৫ (সদর) আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে জাহিদ ফারুক শামীম পেয়েছেন ২ লাখ ১৫ হাজার ৮০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ার পেয়েছেন ৩১ হাজার ৩৬২ ভোট। বিএনপির প্রার্থী এখানেও জামানত পাচ্ছেন না। বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টির নাসরিন জাহান রতনা ১ লাখ ৫৯ হাজার ৩৯৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির আবুল হোসেন খান পেয়েছেন ১৩ হাজার ৬৫৮ ভোট। তিনিও জামানত পাচ্ছেন না। ঝালকাঠির দুটি আসন। এই দুটি আসনেও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা জামানত পাচ্ছেন না। ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিএইচ হারুন ১ লাখ ৩১ হাজার ৫২৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির শাহজাহান ওমর পেয়েছেন ৬ হাজার ১৫১ ভোট। ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের আমির হোসেন আমু পেয়েছেন ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির জীবা আমিনা খান পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৮২ ভোট। এ কারণে দুই আসনেই বিএনপি প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন। একই অবস্থা বরগুনার দুটি আসনেও। বরগুনা-১ (সদর) আসনে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ৩ লাখ ১৭ হাজার ৬২২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির সাবেক সাংসদ মতিয়ার রহমান তালুকদার পেয়েছেন ১৫ হাজার ৮৫০ ভোট। বরগুনা-২ (বামনা-পাথরঘাটা-বেতাগী) আসনে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের শওকত হাচানুর রহমান রিমন পেয়েছেন ২ লাখ ৩২৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির খন্দকার মাহবুব হোসেন পেয়েছেন ৯ হাজার ৫১৮ ভোট। জেলার দুটি আসনেই জামানত ফিরে পাচ্ছেন না বিএনপির দুই প্রার্থী। পটুয়াখালী জেলার চারটি আসনেও বিএনপির কোনো প্রার্থী জামানত ফিরে পাচ্ছেন না। পটুয়াখালী-১ (সদর) আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে শাহজাহান মিয়া পেয়েছেন ২ লাখ ৭০ হাজার ৯৭০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির আলতাফ হোসেন চৌধুরী পেয়েছেন ১০ হাজার ৩৬৯ ভোট। পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আসম ফিরোজ পেয়েছেন ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৮৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের সালমা আলম পেয়েছেন ৫ হাজার ৬৬০ ভোট। পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে এস এম শাহজাদা সাজু পেয়েছেন ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৭৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের গোলাম মাওলা রনি পেয়েছেন ৬ হাজার ১৭৬ ভোট। বিজয়ী এসএম শাহজাদা সিইসি নূরুল হুদার ভাগনে। পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে মুহিব্বুর রহমান মুহিব পেয়েছেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮১২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের এবিএম মোশারেফ হোসেন পেয়েছেন ৬ হাজার ১৮৫ ভোট। চারটি আসনে ধানের শীষ প্রতীকের চার প্রার্থী প্রাপ্ত (কাস্ট) ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পাওয়ায় তারা জামানত পাচ্ছেন না। দ্বীপজেলা ভোলার চারটি আসনের চারটিতেই বিএনপির প্রার্থীরা জামানত হারাচ্ছেন। ভোলা-১ (সদর) আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে তোফায়েল আহমেদ পেয়েছেন ২ লাখ ৪২ হাজার ১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির গোলাম নবী আলমগীর পেয়েছেন ৭ হাজার ২২৪ ভোট। ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান) আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আলী আজম মুকুল পেয়েছেন ২ লাখ ২৬ হাজার ১২৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের হাফিজ ইব্রাহিম পেয়েছেন ১৩ হাজার ৯৯৯ ভোট। ভোলা-৩ (লালমোহন ও তজুমদ্দিন) আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন পেয়েছেন ২ লাখ ৫০ হাজার ৪১১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের হাফিজ উদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন ২ হাজার ৫০২ ভোট। ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব পেয়েছেন ২ লাখ ৯৯ হাজার ১৫০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের নাজিম উদ্দিন আলম পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৭ ভোট। একইভাবে পিরোজপুর জেলার তিনটি আসনেও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা জামানত হারাচ্ছেন। পিরোজপুর-১ (সদর-নেছারাবাদ-নাজিরপুর) আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে শ ম রেজাউল করিম পেয়েছেন ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৫৯৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের জামায়াত নেতা শামীম সাঈদী পেয়েছেন ৯ হাজার ২৭১ ভোট। পিরোজপুর-২ (কাউখালী-ভান্ডারিয়া-জিয়ানগর) আসনে সাইকেল প্রতীক নিয়ে মহাজোটের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পেয়েছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৮৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের মুস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন ৬ হাজার ৩৮৪ ভোট। পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে মহাজোট মনোনীত জাতীয় পার্টির প্রার্থী রুস্তম আলী ফরাজী পেয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩১০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের রুহুল আমিন দুলাল পেয়েছেন ৭ হাজার ৬৯৮ ভোট। এই জেলার তিনটি আসনেই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা জামানত পাচ্ছেন না। অন্যদিকে বিএনপি এলাকা হিসেবে পরিচিত বগুড়ায় জামানত হারালেন হিরো আলমসহ ৩৪ প্রার্থী। বগুড়ায় ৭টি আসনে ৪৭ প্রার্থীর মধ্যে ৩৪ জন তাদের জামানত হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে বর্তমান এক সাংসদ, বিএনপির সাবেক এক সাংসদ এবং আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলমও রয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৭ প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন। এছাড়া ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ৩ প্রার্থী, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) ২ প্রার্থী, কমিউনিস্ট পার্টির ২ প্রার্থী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২ প্রার্থী, ন্যাশনালিস্ট আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) ২ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন আসনে জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), মুসলিম লীগ, ইসলামী ঐক্যজোট, জাকের পার্টি ও তরিকত ফেডারেশনের থেকে যে একজন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তাদের সবার জামানতও বাজেয়াপ্ত হয়েছে। স্বতন্ত্রভাবে যে ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তাদের মধ্যে দুজন ছাড়া ৭ জন তাদের জামানত খুইয়েছেন। জামানত হারানোদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের জাতীয় পার্টির সাংসদ অ্যাডভোকেট আলতাফ আলী ও বগুড়া-১ আসনে বিএনপির সাবেক সাংসদ কাজী রফিকুল ইসলাম। জামানত খোয়ানো হিরো আলম ভোট পেয়েছেন মাত্র ৬৩৮টি। তবে ওই আসনে পরাজিত ৬ প্রার্থীর মধ্যে হিরো আলমই চতুর্থ সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন। বগুড়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুব আলম শাহ্ জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী একটি আসনে কোনো প্রার্থী যদি মোট ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ না পান তাহলে তিনি জামানত হারান। এবার মনোনয়ন ফরমের সঙ্গে প্রত্যেক প্রার্থীকে সরকারি কোষাগারে ২০ হাজার টাকা করে জমা দিতে হয়েছে। তারা কেউই জামানতের এ টাকা ফেরত পাবেন না।গাজীপুর-৩ আসনে জামানত হারালেন ছয় প্রার্থী। গাজীপুর-৩ আসন থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাত প্রার্থী একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এর মধ্যে ৬ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এবারের মোট ভোটারদের মধ্য থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইকবাল হোসেন সবুজ ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৩২০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী প্রিন্সিপাল ইকবাল সিদ্দিকী পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৭৮৬ ভোট, মই প্রতীকে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম মফিজ উদ্দিন আহমদ পেয়েছেন ১৮৫ ভোট, গোলাপ ফুল প্রতীকে জাকের পার্টির নাসির উদ্দিন পেয়েছেন ৭৫২ ভোট, ফুলের মালা প্রতীকে তরিকত ফেডারেশনের রফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৬১ ভোট ও হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলনের রহমত উল্লাহ পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৮৯ ভোট ও জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে আফতাব উদ্দিন আহমেদ আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েও পেয়েছেন ৩৩৩টি ভোট। এতে এই আসনে বিজয়ী প্রার্থী ছাড়া বাকি ৬ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। চট্টগ্রামে বিএনপির নোমান-শাহাদাতসহ জামানত হারালেন যারা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশের ৬টি আসনে ৩৯ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এদের মধ্যে বিএনপির আবদুল্লাহ আল নোমান, ডা. শাহাদাত হোসেনও জামানত হারিয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ভোটের ফলাফল অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকু-) আসনে প্রদত্ত বৈধ ভোট ৩ লাখ ৪ হাজার ৪০৮টি। আসনটিতে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- বিএনপির আসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মুহাম্মদ আশরাফ হোসাইন, জাতীয় পার্টির দিদারুল কবির, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. মোজাম্মেল হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সামছুল আলম হাসেম। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে প্রদত্ত বৈধ ভোট সংখ্যা ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৪৪২টি। আসনটিতে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন- ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের ছৈয়দ হাফেজ আহমদ, ইসলামী ঐক্যজোটের মঈন উদ্দীন রুহী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মীর ইদরীস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ রফিক, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. নঈমুল ইসলাম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নাসির উদ্দিন, খেলাফত মজলিসের শিহাবুদ্দীন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ নাছির হায়দার করিম। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী) আসনে প্রদত্ত বৈধ ভোট ৩ লাখ ৪১ হাজার ১৯২টি। বোয়ালখালীতে ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন- বিএনএফের এসএম ইকবাল হোসেন, ন্যাপের বাপন দাশগুপ্ত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ডা. মো. ফরিদ খান, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. সেহাব উদ্দিন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সেহাব উদ্দিন মোহাম্মদ আবদুস সামাদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক ও হাসান মাহমুদ চৌধুরী।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে প্রদত্ত বৈধ ভোট সংখ্যা ২ লাখ ৪৫ হাজার ৪৪৯টি। এর মধ্যে বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন ভোট পেয়েছেন ১৭ হাজার ৬৪২। একই আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের আবু আজম, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মৃণাল চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মৌলভী রশিদুল হক, জাতীয় পার্টির মো. মোরশেদ সিদ্দিকী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শেখ আমজাদ হোসেন জামানত হারিয়েছেন। চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী) আসনে প্রদত্ত বৈধ ভোট ৩ লাখ ৩২ হাজার ৭১৫টি। সেখানে ধানের শীষের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল নোমানের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তিনি ভোট পেয়েছেন ৪১ হাজার ৩৯০। একই আসনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির কাজী মো. ইউসুফ আলী চৌধুরী, বিএনএফের জিএসএম আতিউল্লাহ ওয়াসীম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জান্নাতুল ইসলাম, বাসদের মো. মাহিন উদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবিনা খাতুন, বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ জামানত হারিয়েছেন। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে ৫ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। ওই আসনে প্রদত্ত বৈধ ভোট ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৬৯৮টি। আসনটিতে জামানত হারিয়েছেন বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির অপু দাশ গুপ্ত, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আবুল বাশার মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এমএ মতিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. লোকমান সওদাগর ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মৌলভী রশিদুল হক। অন্যদিকে গাইবান্ধায় ৩০ প্রার্থীর ২৪ জনই জামানত হারালেন। গাইবান্ধার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ৩০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এদের মধ্যে ২৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। মোট প্রাপ্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয় বলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান জানান। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ১১ জন। এর মধ্যে নয়জন জামানত হারান। তারা হলেন মুসলিম লীগ হারিকেন প্রতীকের গোলাম আহসান হাবীব মাসুদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মো. আশরাফুল ইসলাম খন্দকার, গণতন্ত্রী পার্টির কবুতর প্রতীকের আবুল বাসার মো. শরীতুল্লাহ, গণফ্রন্টের মাছ প্রতীকের শরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের বটগাছ প্রতীকের হাফিজুর রহমান সদ্দার, বাসদের মই প্রতীকের মো. গোলাম রব্বানী শাহ, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোটরগাড়ি (কার) প্রতীকের কর্নেল (অব.) আবদুল কাদের খাঁন, স্বতন্ত্র প্রার্থী আপেল প্রতীকের (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) আফরুজা বারী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কুড়াল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এমদাদুল হক। প্রার্থীদের মধ্যে আফরুজা বারী ও এমদাদুল হক কয়েক দিন আগে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন সাতজন। এর মধ্যে পাঁচজন জামানত হারান। তারা হলেন সিপিবির কাস্তে প্রতীকের মিহির ঘোষ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মো. আল-আমিন, ইসলামী ঐক্যজোটের মিনার প্রতীকের মাওলানা যুবায়ের আহমদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আম প্রতীকের জিয়া জামান খান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সিংহ প্রতীকের মকদুবর রহমান। গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে মোট সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ছয়জনই জামানত হারান। তারা হলেন জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের কাজী মশিউর রহমান, জাকের পার্টির গোলাপ ফুল প্রতীকের মো. আবুল কালাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের সৈয়দ তৌহিদুল ইসলাম তুহিন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কোদাল প্রতীকের মো. ছামিউল আলম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আম প্রতীকের খন্দকার মো. রাশেদ এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের হারিকেন প্রতীকের সানোয়ার হোসেন। গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন পাঁচজন। এর মধ্যে চারজনই জামানত হারান। তারা হলেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের ফারুক আলম সরকার, জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের এএইচএম গোলাম শহীদ রঞ্জু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের আবদুর রাজ্জাক ম-ল এবং সিপিবির কাস্তে প্রতীকের যজেস্বর বর্মণ। এছাড়াও বিএনপি জোটসহ যারা জামানত হারিয়েছেন পাবনা-১ গণফোরামের অধ্যাপক আবু সাঈদ, যশোর-৪ মুফতি ওয়াক্কাছ, বরগুনা-২ খন্দকার মাহবুব হোসেন, পিরোজপুর-২ মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, টাঙ্গাইল-২ সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, শেরপুর-১ ডা.সানজিলা জেবরিন, নেত্রকোণা-১ ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, মুন্সিগঞ্জ-১ মিজানুর রহমান সিনহা, ঢাকা-১ সালমা ইসলাম, ঢাকা-৩ গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ অনেকে জামানত হারিয়েছেন। এছাড়া নোয়াখালী-৪ ব্যারিস্টার মওদুদ, নোয়াখালী-১ থেকে মাহবুব উদ্দিন খোকন, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির কর্নেল (অব.) অলি আহমদ জামানত হারিয়েছেন।