সিআইপি কার্ড পেলেন যাঁরা

546

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ‘গুরুত্বপূর্ণ অবদানের’ স্বীকৃতি হিসেবে ৫৬ উদ্যোক্তাকে ‘বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তি হিসেবে (সিআইপি-শিল্প) মনোনীত করেছে সরকার। ২০১৬ সালের জন্য মনোনীত এই সিআইপিরা এক বছরের জন্য একটি পরিচয়পত্র পেয়েছেন, যা দিয়ে তারা বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (১৩সেপ্টেম্বর)শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে সিআইপিদের হাতে সিআইপি কার্ড ও ক্রেস্ট তুলে দেন। ভারপ্রাপ্ত শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিমের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন।

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, “বিএনপির জ্বালাও-পোড়াও ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই আপনারা এগিয়ে যাচ্ছেন। আপনারা সঠিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার কারণেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।” সরকার ‘পরিকল্পিতভাবে সম্পদের সঠিক ব্যবহার’ করায় বাংলাদেশ ২০২১ সালের আগেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী বলেন, “সরকার নতুন নতুন শিল্প উদ্যোক্তা তৈরির জন্য পূর্ণ সহযোগিতা করছে। প্রধানমন্ত্রী যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির কাজ করছেন, সেখানে দেশীয় উদ্যোক্তারা স্থান পাবেন সবার আগে, এরপর জায়গা থাকা সাপেক্ষে বিদেশিদের সুযোগ দেওয়া হবে।”

বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে শিল্প স্থাপন, পণ্য, উৎপাদন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জাতীয় আয় বৃদ্ধিসহ দেশের অর্থনীতিতে অবদানের জন্য ‘সিআইপি (শিল্প) নির্বাচন নীতিমালা-২০১৪ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জন্য পাঁচ ক্যাটাগরিতে এই ৫৬ ব্যবসায়ীকে মনোনীত করা হয়েছে।

বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি হিসেবে পদাধিকার বলে ৮ জন এবার সিআইপি হয়েছেন: এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ*বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি এ কে আজাদ*বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান*বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান*ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) প্রেসিডেন্ট রূপালী হক চৌধুরী*বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি সেলিমা আহমাদ*বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তপন চৌধুরী*জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি বাংলাদেশের (নাসিব) সভাপতি মির্জা নুরুল গণি শোভন।

বৃহৎ শিল্প (উৎপাদন) ক্যাটাগরিতে সিআইপি হয়েছেন ২০ জন: বিএসআরএম স্টিলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আলী হোসাইন আকবর আলী*ইউনিভার্সেল জিন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাছির উদ্দিন*বিআরবি কেবলস ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. পারভেজ রহমান*এসিআই লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আরিফ দৌলা*বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমের আলী হোসাইন*জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেব্রিক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস ছামাদ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (নোমান)*কসমোপলিটন ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক তানভীর আহমেদ*আব্দুল মোনেম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মোনেম*বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আবু নোমান হাওলাদার*পাহাড়তলী টেক্সটাইল অ্যান্ড হোসিয়ারি মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা সালমান ইস্পাহানি*ফারিহা নিট টেক্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মামুন ভূঁইয়া*এম আর এস ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামসুর রহমান*মেসার্স ভিয়েলাটেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে. এম. রেজাউল হাসানাত*সোহাগপুর টেক্সটাইল মিলসের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার*প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেডের মনোনীত মালিক পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর*স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী*পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান*এনভয় টেক্সটাইলসের চেয়ারম্যান কুতুব উদ্দিন আহমেদ*বাদশা টেক্সটাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. বাদশা মিয়া*মেঘনা সিমেন্ট মিলস লিমিটেডের উদ্যোক্তা পরিচালক সায়েম সোবহান।

বৃহৎ শিল্প (সেবা) ক্যাটাগরিতে সিআইপি হয়েছেন ৫ জন: তারা হলেন- এসটিএস হোল্ডিংসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার মনির উদ্দীন*নাভানা রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম*কনকর্ড রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান এস এম কামাল উদ্দিন*জিএমই অ্যাগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী হাসান মাহমুদ*শেলটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. তৌফিক এম সেরাজ।

মাঝারি শিল্প (উৎপাদন) ক্যাটাগরিতে ১২ সিআইপি হয়েছেন:*আরএফএল প্লাস্টিকস লিমিটেডের পরিচালক ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী*প্রমি অ্যাগ্রো ফুডস লিমিটেডের চেয়ারম্যান এনামুল হাসান খান*অকো-টেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সোবহান*মাধবদী ডাইং ফিনিশিং মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া লিটন*ফু-ওয়াং ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ আহমেদ চৌধুরী*অ্যাকোয়া মিনারেল টারপেনটাইন অ্যান্ড সলভেন্টস প্ল্যান্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রামজুল সিরাজ*মেসার্স সিটাডেল অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহিদুল ইসলাম খান*জালালাবাদ ফ্রোজেন ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল জব্বার মোল্লা*বসুমতি ডিসট্রিবিউশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জেড এম গোলাম নবী*মোনেম ইগলু ফুডস লিমিটেডের পরিচালক এ এস এম মঈনউদ্দিন*বি আর বি পলিমার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবর রহমান*মোশাররফ স্পিনিং মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন।

মাঝারি শিল্প (সেবা) ক্যাটাগরিতে তিনজন সিআইপি হয়েছেন: স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান খান মো. আফতাব উদ্দিন*শান্ত প্রোপার্টিসের পরিচালক মিজ জেসমিন সুলতানা*বিল্ডিং ফর ফিউচারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভিরুল হক প্রবাল*ক্ষুদ্র শিল্প (উৎপাদন) ক্যাটাগরিতে সিআইপি হয়েছেন ৫ জন*কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজবার রহমান*ফুজি ইংক ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মিজ ফারহানা মোনেম*আরএমএম লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন*রানার ব্রিকস লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন*সবজীয়ানা লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবু শাহরিয়ার

ক্ষুদ্র শিল্প (সেবা) ক্যাটাগরিতে সিআইপি হয়েছেন একজন:কিউএনএস কনটেইনার সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান নুরুল কাইয়ুম খান

মাইক্রো শিল্প ক্যাটাগরিতে একজন সিআইপি হয়েছেন: টেকনোমিডিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক যশোদা জীবন দেব নাথ

কুটির শিল্প ক্যাটাগরিতে সিআইপি হয়েছেন একজন: এবি ফ্যাশন মেকারের স্বত্বাধিকারী সানাউল হক বাবুল

Comments are closed.