চুক্তির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ২০ মাস পর দেশের চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৭ টাকা বাড়িয়ে ১০২ টাকা

0 2,101

চুক্তির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ২০ মাস পর দেশের চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৭ টাকা বাড়িয়ে ১০২ টাকা করা হয়েছে। বর্তমান বাজার দরের সাথে খাপ খাইয়ে এই মজুরি সাধারণ চা শ্রমিকরা মেনে নিতে পারছেন না। শ্রমিকরা বলেন, বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর ঊর্ধ্বগতিতে ৩-৪ জনের একটি পরিবারের জন্য বাড়তি এই ১৭ টাকায় তাদের কোনো কাজেই আসবে না।

শ্রমিকদের দাবি, বাজারে চালের কেজি যেখানে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা সেখানে ১০২ টাকা দিয়ে কেবল ২ কেজি চালই কেনা সম্ভব। তেল-নুনসহ অন্যান্য খরচ করা সম্ভবই না। সে কারণে তারা চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি কমপক্ষে দুইশ’ টাকা করার দাবি জানান।

বাগানের শ্রমিকদের সাথে কথা বলে এ প্রতিক্রিয়া জানা গেছে।

সংসার কেমন চলছে? জানতে চাইলে ভাড়াউড়া চা ডিভিশনের খাইছড়া চা বাগানের নারী শ্রমিক দূর্গা মণি বাড়াইক বলেন, ‘চালের দাম বাড়তে আছে, এই হাজরি মজুরি বাড়া না বাড়া সমান কথা। সামনে একটা পরব আসছে কাপড়ের অনেক দাম হয়ে যাবে, কেমনে চলবে আমাদের সংসার।’

একই বাগানের চা শ্রমিক চম্পা দুধ বংশী বলেন, ‘কই চলছে, বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে কেমনে চলে। স্বামী কাঠমিস্ত্রি বেকার। এই হাজরি দিয়ে সংসার চলা কঠিন আছে’।

বাগান চৌকিদার সোলেমান মিয়া বলেন, ‘এই ১০২ টাকা দিয়ে কি হবে। আগে শুনলাম দেড়শ’ টাকা পরে শুনলাম ১শ’ ত্রিশ টাকা আর এখন শুনছি ১০২ টাকা মজুরি। ছেলে-পেলে নিয়ে এই টাকা দিয়ে কীভাবে চলবো’।

এই চা বাগানের নারী সদস্য আরতী বাকতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই সামান্য মজুরি বাড়াতে গিয়ে মালিক পক্ষ নাকি ৩ কেজি আটা রেশন ও হাসপাতাল সুবিধা তুলে নেবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৬ অক্টোবর চা শ্রমিকদের মজুরি চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে দৈনিক মজুরি ৬৯ টাকা থেকে বেড়ে সর্বোচ্চ ৮৫ টাকায় উন্নীত হয়।

সম্পাদিত ওই চুক্তি মোতাবেক ২০১৫ সালে ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা হয়। দেশে ২০টি উপজেলায় ২২৮টি বাগান ও ফাঁড়ি বাগান রয়েছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজার জেলাতেই চা বাগান রয়েছে ৯৩টি। এসব চা বাগানে নিয়মিত চা শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৯২ হাজার। আর অনিয়মিত চা শ্রমিক রয়েছে ৪০ হাজার।

শ্রমিক নেতা রামভজন কৈরী বলেন, আমাদের মধ্যে মজুরি বৃদ্ধিসহ অন্যান্য সুবিধাদিও বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। চুক্তির জন্য ছোটখাট কিছু কাজ বাকি আছে। সেসব কাজ শেষে আগামী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে চুক্তির বিষয়ে দুই পক্ষ প্রাথমিকভাবে সম্মত হয়েছে। চুক্তি পরে হলেও ২৭ আগস্ট থেকে শ্রমিকেরা নতুন হারে মজুরি পাবেন।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বলেন, তাদের তরফ থেকে ২৩০ টাকা মজুরি দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু শ্রমিকদের অনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা বিবেচনা করে মালিক পক্ষ ১০২ টাকার বেশি দিতে রাজি হয়নি। বর্তমানে একজন শ্রমিক ২ হাজার ৭২০ টাকা বোনাস পাচ্ছেন। এখন তা বেড়ে ৪ হাজার ৫৯০ টাকা হয়েছে। এছাড়া মাসিক বেতনধারী শ্রমিকের বেতন ৩ হাজার ৬৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৫ হাজার ২০০ টাকা হয়েছে।

এছাড়া এখন থেকে ক্যাজুয়েল বা অস্থায়ী ঠিকাদার শ্রমিকরা স্থায়ী বা মাসিক বেতনধারী শ্রমিকের মজুরির সমান পাবেন বলে জানান।

এদিকে চা শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটি চা শ্রমিকদের এই মজুরি প্রত্যাখান করে ৩শ’ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।

Leave A Reply