mb

কুদালীছড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে সকল জনপ্রতিনিধি ও নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেন মেয়র ফজলুর রহমান

749

মৌলভীবাজার২৪ ডেস্কঃ ॥ দুইদিন বৃষ্টি হয়েছে কিন্তু কোদালী ছড়া দিয়ে পানি নামছেনা। বলতে গেলে অনেকটাই পানির প্রবাহ থেমে গেছে। প্রেসক্লাব থেকে কুদালী পুলের পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত পৌর এলাকায় কোন প্রতিবন্ধতা নেই। তার পরও বৃষ্টির পানি নামছেনা। শ্রীমঙ্গল সড়ক হয়ে সিএনজি পাম্পের সামনে গিয়ে পশ্চিম দিকে কাইঞ্জার হাওরের দিকে তাকালে দেখা যায় পানি তৈই তৈই করছে। কারণ খুঁজতে গেলেন আজমেরু থেকে গ্রাম শ্রীমঙ্গল পর্যন্ত। এবার চোখের সামনে চলে আসে পানি নিষ্কাশন না হওয়ার বাস্তব চিত্র। আজমেরু এলাকায় অপরিকল্পিত স্লুইচ গেইটের অগ্রভাগ থেকে অসংখ্য কুচুরিপনা ও ঝোপ জঙ্গল শুরু। দূপুর ২ টা থেকে সন্ধ্যার পূর্ব পর্যন্ত কদালী ছড়ার মোস্তফাপুর ও গিয়াসনগর ইউনিয়নের প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা পরিদর্শনে গেলে দেখেন স্থানে স্থানে কুচুরিপনা ও ঝোপ জঙ্গলে চেয়ে গেছে। কুদালী ছড়ার ভেতরে এসব ঝোপ জঙ্গল পরিদর্শন শেষে ২৯ মে সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র মোঃ ফজলুর রহমান মন্তব্য করেন একা কারো পক্ষে সম্বব নয় এর সমাধান দেয়া। এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন পৌর কাউন্সিলর মনবীররায় মজ্ঞু ও আয়াস আহমদ।
পৌর মেয়র মোঃ ফজলুর রহমান জানান, মৌলভীবাজার শহরের একমাত্র পানি নিষ্কাশনের পথ হচ্ছে কুদালী ছড়া। বর্তমানে পানি নিষ্কাশনে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। দ্রুত ঝোপ জঙ্গল অপসারণ করা না গেলে শহরে আবার জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। পৌর মেয়র তাৎক্ষনিক ১৫ জন শ্রমিক নিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহের বাঁধা অপসারনের কাজ শুরু করেন। সেই সাথে তিনি পরবর্তী ইউনিয়ন সমূহের সকল জনপ্রতিনিধি ও নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

উল্লেখ্য ছড়াটি বর্ষিজোড়া পাহাড় থেকে শুরু হয়ে শহর ও গ্রাম দিয়ে বয়ে হাইল হাওরেই শেষ হয়েছে। নাব্য হ্রাস আর দু’তীরে অবৈদ দখল দ্বারিত্বে বিলীন হতে চলেছিল কুদালি ছড়া। প্রতিনিয়তই এমন জন উপদ্রবে এক সময়ে বর্ষার স্রোতস্বিনী কুদালী ছড়াটি হয়ে পড়ে মৃত্যুপথ যাত্রি। আর এ কারনেই বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় শহরবাসীদের অসহ্যনীয় দূর্ভোগ। ছড়াটির এমন আত্নহনন রোধে ২০১৮ সালে উদ্যোগি হন মৌলভীবাজার পৌর সভা।
পৌরসভার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানায় জেলা প্রশাসনও। তাদের যৌথ উদ্যোগে শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে কুদালী ছড়া রক্ষায় নানা শ্রেণী পেশার মানুষকে নিয়ে জেলা প্রশাসকের হল রুমে তৎকালিন জেলা প্রশাসক তোফায়েল আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি স্বেচ্ছা শ্রমে কুদালী ছড়া খনন শুরু হয়। পৌর এলাকাও মোস্তফাপুর অংশ খনন শেষ হয় কিন্তু গিয়াসনগর এলাকা এখনও খনন হয়নি।
খনন কাজ শুরুর আগে ওইদিন জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গন থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সম্মুখে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় সরকারী কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধি, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক সহ প্রায় ৫০টি সামাজিক সংগঠন অংশগ্রহণ করে। পরে সেচ্ছাশ্রমে কুদালীছড়া খনন ও পরিষ্কার পরিচন্নতা অভিযানে নামেন।

new ads

খননকাজ ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নেন তৎসময়ের মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসীন, জেলা প্রশাসক মোঃ তোফায়েল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ জালাল, জেলা পরিষদ চেয়াম্যান আজিজুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি নেছার আহমদ, মৌলভীবাজার সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ ড.ফজলুল আলী, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল হামিদ মাহবুব, চেম্বার সভাপতি মোঃ কামাল হোসেন সহ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্ধ।

এমন সিদ্ধাতে অনুপ্রাণিত হন স্থানীয় ভুক্তভুগি বাসিন্দারা। সকলেই কোদালী ছড়া বাঁচাতে স্বেচ্ছা শ্রমে অংশ নেন। পরে এ সব দূরীকরণে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যেগে স্বেচ্ছাশ্রমে পরিষ্কার পরিছন্ন ও খনন কাজ শুরু হয়। শুরুর প্রথম দিন পৌরসভার আওতাধীন প্রায় ৪ কিলোমিটার অংশে কুদালী ছড়া পরিস্কার পরিচ্ছন্নতায় স্বর্তস্ফুর্ত অংশ নেন সহস্রাধিক মানুষ।

জানা যায় কুদালী ছড়ার দৈর্ঘ্য হচ্ছে ১৭ কিলোমিটার। পৌরসভা ছাড়াও ৩টি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম দিয়েও প্রবাহিত হচ্ছে কুদালী ছড়া। সে কারনে ছড়াটি শহর বাসির জন্য যে শুধু জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজন এমনটি নয়। গ্রামের কৃষিজীবী মানুষেরও জীবনের অনুসঙ্গ। তাই ছড়াটি কৃষিজীবী মানুষের ধান ও মৌসুমী সবজি চাষের জন্য পানির অন্যতম উৎস। আর তার স্বচ্ছ মিঠা পানির জলাধার দেশীয় প্রজাতি মাছের নিরাপদ আবাসস্থল।
ঝোপ জঙ্গল পরিষ্কার না হওয়ার কারণ হিসেবে পৌর মেয়র মোঃ ফজলুর রহমান জানান, কুদালী ছড়ার মোট দৈর্ঘ্য হচ্ছে ১৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৪ কিলোমিটার পড়েছে পৌরসভার অংশে বাকী ১৩ কিলোমিটার রয়েছে ইউনিয়নে। পৌরভার অংশের ৪ কিলোমিটার পরিছন্ন রেখেছি। পৌরসভার বাহিরের ১৩ কিলোমিটার আমার দায়িত্বে নয়। পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিলে ওই ১৩ কিলোমিটার এলাকায় গিয়ে ঝোপ জঙ্গল পরিস্কার করতে হয় আমাকে। ইতো মধ্যে মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আজমেরু এলাকায় ১৫জন শ্রমিক লাগিয়েছি পষ্কিার করার জন্য। পূর্বের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান কুদালী ছড়া খননের উদ্যেগ নেন। যদিও তিনি আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে বদলী জনিতকারণে থাকতে পারেননি। পরবর্তী জেলা প্রশাসক তোফায়েল আহমদ কুদালী ছড়া খনন সহ পরবর্তী সকল কাজে উদ্যেগী হয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে অগ্রনী ভুমিকা রেখেছেন। বর্তমানে সমন্নয়হীনতার অভাব রয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে মেয়র পরবর্তী ইউনিয়ন সমূহের সকল জনপ্রতিনিধি ও নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। না হলে কুদালীছড়া পূর্বের ন্যায় পৌরবাসীর দুঃখ হিসেবে আরো প্রকোট হবে।

এ বিষয়ে ১১ নং মোস্তফাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাজ উদ্দিন জানান, স্থানে স্থানে কুচুরিপনা লেগে আছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে পরিষ্কার করা যায়নি। যেহেতু বর্তমানে সমস্যা দেখা দিয়েছে আমি অচিরেই পরিষ্কারের ব্যবস্থা নিব। এ ছাড়া আমার ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে কোদলী ছড়ার উপর ছোট একটি স্লুইট গেইট নির্মান করা হয়েছে। এটি নির্মানের পর থেকে ওই স্থানে ঝোপ জঙ্গল লেগে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা স্লুইট গেইটটি অপসারনের জন্য জানিয়েছি।

চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা জানান, তার ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত কুদালী ছড়া এখনও খনন হয়নি। গত ২ বছর আগে মৌলভীবাজার পৌরসভা ও মোস্তফাপুর ইউনিয়নের অংশ খনন হয়েছে। তার ইউনিয়নের আরেকটি অংশের কাটাগাং কিছু অংশ খনন হয়েছে এর পর বন্ধ হয়ে যায়। আমি একাধিকবার জেলা উন্নয়ন সমন্নয় কমিটির সভায় কুদালীছড়া খননের বিষয়ে বলেছি। খনন না হওয়ায় কুদালী ছড়ার গভীরতা কমে পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে। পাশাপাশি ঝোপ জঙ্গল লেগে থাকায় হাইল হাওর পর্যন্ত ছড়ার পানি দ্রুত নিস্কাশন হচ্ছেনা।

স্থানীয় ভুক্তভুগি ও কৃষকদের দাবী কুদালী ছড়া খনন সহ ঝোপ জঙ্গল দ্রুত পরিষ্কারে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা উদ্যেগী হবেন।

10